শিলং এর দর্শনীয় স্থান

শিলং এর দর্শনীয় স্থান

প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড" হিসাবে প্রশংসিত, শিলং ৪৯০৮ ফুট উচ্চতায় স্থিত রয়েছে। মেঘালয়ের এই রাজধানী শহরটি হল সবচেয়ে এক অন্যতম পরিচ্ছন্ন গন্তব্যস্থল, যা কাঠের তলবিশষ্ট ঘর ও খাসি রমণীদের সমন্বয়ে গঠিত যারা তাঁদের পিঠে শিশুদের বেঁধে নিয়ে প্রাত্যহিক নিত্যকর্মে বেরিয়ে পড়েন। শিলং শহরের বাইরে ও অভ্যন্তরে প্রচুর দর্শনীয় আকর্ষণ রয়েছে, যা প্রতিটি পর্বত প্রেমীদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই শিলং এর দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।

১.মওলীননোঙ্গ ভিলেজ - এশিয়ার সবচেয়ে “পরিচ্ছন্নময়” গ্রাম হিসাবে পুরষ্কারপ্রাপ্ত, মওলীননোঙ্গ হল- প্রাণবন্ত শিকড়ি-সেতু, প্রতিমান প্রস্তর, জলপ্রপাত ও কিছু বিস্ময়কর হাঁটার রাস্তা সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক আকর্ষণের আয়োজক। শিলং থেকে মওলীননোঙ্গ পর্যন্ত ৫৬ মাইলের দীর্ঘ সফর, প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও শোহরা মালভূমির বেশ কিছু মহীয়ান দৃশ্যকল্প পরিদর্শনের সুযোগ করে দেয়।

২.উমিয়াম লেক - স্কটল্যান্ডের সমুদ্র শাখা বা হ্রদের সাথে তুলনাময়, উমিয়াম লেক শিলং থেকে বেশ কিছু দূরত্বে অবস্থিত। কেউ যদি শুধুমাত্র পর্যটকদের থেকে নির্বিঘ্নে একটি ছবির মতো নিখুঁত প্রশান্ত হ্রদের ধারে বসে থাকতে ভালবাসেন, উমিয়াম লেক সেইরকম একটি স্থান হতে পারে।

৩.এলিফ্যান্ট জলপ্রপাত -  এলিফ্যান্ট জলপ্রপাত নামকরণ করা হয়েছে কারণ জলপ্রপাতটির নিকটে একটি হস্তী-আকৃতির পাথর রয়েছে। যদিও এই প্রস্তরটি দীর্ঘদিন আগে একটি ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, কিন্তু নামটি এখনও অটল রয়েছে। জলপ্রপাতটি তিনটি ধাপে রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ঐশ্বর্যশালী হল তৃতীয় নির্ঝরটি। নীচেরটি দেখতে হলে একজন দর্শককে বেশ কিছু শ্রেণীবদ্ধ ধাপ নীচে নামা প্রয়োজন। জলোচ্ছাসের শব্দ ও শীতল বায়ু এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

৪.শিলং পার্ক বা শিলং ভিউপয়েন্ট -  শিলং পরিভ্রমণে গেলে, এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ কেন্দ্রে পাড়ি দেওয়াটা সর্বদাই একটি ভালো ধারণা। এখানকার টিলা ও উপত্যকাগুলির দৃশ্য খুবই উত্তেজনাপূর্ণ এবং এখানকার বাতাস লক্ষণীয়ভাবে খুবই সতেজ।

৫.ওয়ার্ডস লেক - গল্ফ ক্ষেত্র থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বের মধ্যেই শোভামন্ডিত সেতু, নৌকাচালনার সুবিধা ও রাজহাঁসেদের সঙ্গে সৌন্দর্যবর্ধিত এই সুন্দর হ্রদটি আচ্ছাদিত রয়েছে।

৬.অল সেন্টস চার্চ -  বর্তমানে অল সেন্টস ক্যাথিড্রাল নামে অভিহিত, এই ভবনটি একশ বছরের চেয়েও পুরনো। স্থানীয় খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের জমায়েতই শুধুমাত্র তাদের দৈনন্দিন প্রার্থনার জন্য এই গির্জায় ভিড় করে না, বরঞ্চ পরিদর্শন করতে আসা পর্যটকরাও তার ইতিহাস ও স্থাপত্যের সাক্ষী হতে এখানে ভিড় করে।