আলিপুরদুয়ারের দর্শনীয় স্থান

আলিপুরদুয়ারের দর্শনীয় স্থান

২০১৪ সালের ২৫ জুন গঠিত হয় আলিপুরদুয়ার জেলা। পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চল ভুটান তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জেলায় বহু দর্শনীয় স্থান বা পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে।এই পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে প্রতি বছর বহু দেশ-বিদেশের পর্যটক আসে। জেলার বেশির ভাগ অংশ ঘন বনাঞ্চল দ্বারা আবৃত। এই বনাঞ্চল হল ভারতীয় গণ্ডার ও হাতির প্রধান বাসভূমি। এছাড়া এখানে বাঘ, চিতা, হরিণও নানাধরনের পাখি রয়েছে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই জেলার কিছু দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।

 বক্সা জাতীয় উদ্যান- আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা পাহাড় অঞ্চলে বক্সা জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। এখানে একটি ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এই উদ্যানে বাঘ, সিভেট ও রেড জঙ্গল ফাউল দেখা যায়। এই উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত এক দুর্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। এছাড়া, উদ্যানের মধ্যে একটি শিব মন্দিরও আছে। এটিকে স্থানীয় মানুষেরা পবিত্র মনে করে।

 জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান- পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান তোর্সা নদীকেন্দ্রিক বনাঞ্চলময় সুবিস্তীর্ণ তৃণভূমি। এখানকার জীবজন্তুর মধ্যে অবলুপ্তপ্রায় একশৃঙ্গ গণ্ডার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জলদাপাড়ায় পর্যটকদের জন্য এলিফ্যান্ট সাফারির মাধ্যমে জীবজন্তু পরিদর্শনের ব্যবস্থা আছে।

 চিলাপাতা- জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ও বক্সা জাতীয় উদ্যানের মধ্যবর্তী হাতি করিডোর চিলাপাতা বনাঞ্চল একটি গভীর বনাঞ্চল । এই বনে বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু দেখা যায়। এখানে আগে গণ্ডার দেখা যেত। এখন এখানে চিতাবাঘ দেখা যায়। রাভা উপজাতির মানুষেরা এই জঙ্গল থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে। 

 জয়ন্তী- আলিপুরদুয়ার থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বক্সা জঙ্গলের ধার ঘেঁষা জয়ন্তীকে বলা হয় ডুয়ার্সের রানি। ভারত-ভূটান সীমান্তবর্তী পাহাড়ে ঘেরা জয়ন্তী নদীর ধারে এককালে কোনও গ্রাম ছিল বলে শোনা যায়। এখন তার অস্তিত্ব না থাকলেও রয়েছে অল্প বিস্তর চিহ্ন। গর্বের গতিপথ হারিয়েছে জয়ন্তী নদীও। তবু সৌন্দর্য্যে একফোঁটা ভাঁটা পড়েনি। 

 রাজাভাতখাওয়া- আক্ষরিক অর্থে রাজাভাতখাওয়ার অর্থ যেখানে রাজা ভাত খেয়েছিলেন৷ জনশ্রুতি অনুসারে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ কোচবিহারের রাজা বর্তমান রাজাভাতখাওয়া অঞ্চল থেকে ভুটানের রাজাকে সিংহাসনচ্যুত করার প্রতিজ্ঞা করে তারপর ভাত খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন৷ কিছুদিন পরে ভুটানের রাজা স্বয়ং এই অঞ্চল ত্যাগ করলে মিত্রতার গ্রহণের সাথে ঘনজঙ্গলাবৃত জনপদটিতে ভোজনের আয়োজন করা হয়৷ এভাবে রাজাভাতখাওয়া নামের উৎপত্তি৷

 টোটোপাড়া- টোটোপাড়া একটি ছোট পাহাড়ী গ্রাম, যা ভারত-ভুটান সীমান্তে তাদিং পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। গ্রামটি একটি নৃতাত্ত্বিক পর্যটনস্থল। এটি বিশ্বে টোটো উপজাতির একমাত্র আবাসস্থল। এ গ্রাম ছাড়া বিশ্বের অন্য কোথাও এই উপজাতির বসবাস নেই।