বর্ধমানের ১০৮ শিব মন্দির এর কিছু তথ্য সম্পর্কে

বর্ধমানের ১০৮ শিব মন্দির এর কিছু তথ্য সম্পর্কে

পশ্চিমবঙ্গের একটি ঐতিহাসিক জেলা হল বর্ধমান জেলা। এই জেলার প্রতিটি ইটের গায়ে জড়িয়ে আছে কত ইতিহাসের গল্প, রাজা-রানীদের নানান কীর্তি। জেলার নানান স্থানে নানারকম স্থাপত্যকীর্তি ছড়িয়ে আছে। এখনো তার কিছু নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়, আবার কিছু জরাজীর্ণ ও কিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন মা সর্বমঙ্গলা।

তবে রাজ পরিবারের শিব ঠাকুরের প্রতি একটা আলাদা মোহ ছিল। এই জেলাকে শিব ঠাকুরের জেলা বললে ভুল বলা হয় না। সমগ্র জেলাজুড়ে অসংখ্য শিব মন্দির রয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে শিবঠাকুর বা মহাদেব পূজিত হয়ে থাকেন। কোথাও প্রতাপেশ্বর, কোথাও রাজেশ্বর, কোথাও পঞ্চানন, কোথাও বুড়োশিব, কোথাও বৈদ্যনাথ, কোথাও বুড়োরাজ নামে শিবঠাকুর পূজিত হন।

শিবঠাকুরই এই জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় দেবতা বলে মনে হয়। বর্ধমান জেলার সবচেয়ে বড় শিব ঠাকুর রয়েছে আলমগঞ্জের মোটা শিব নামে। এই শিবলিঙ্গটিকে বর্ধমানেশ্বর বলে অভিহিত করা হয়। এই শিব লিঙ্গটির উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট আর ওজন প্রায় ৩৬০ কিলোগ্রাম। শোনা যায় ১৯৭২ সালে মাটি খোঁড়ার সময় এই বিশালাকৃতি শিবলিঙ্গটি পাওয়া গিয়েছিল।

বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের খুব কাছের একটা ছোট্ট গ্রাম হল নবাবহাট। নবাবহাট অঞ্চলেই মুঘলদের সাথে নবাবদের যুদ্ধ হয়েছিল। মুঘল আমলে বর্ধমানের নাম ছিল শরিফাবাদ। আবুল ফজলের লেখা "আইন ই আকবরী" বইতে এই নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,মন্দিরটি ওড়িশার বালেশ্বরের মন্দিরের আটচালার নকশার আদলে নির্মিত হয়।

মন্দিরের অবস্থান পাশাপাশি হলেও প্রতিটি মন্দিরের সামনে রয়েছে খোলা টানা বারান্দা। প্রতিটি মন্দিরের একটি দরজা। সব মন্দিরে রয়েছে কষ্টিপাথরের গৌরীপট্ট-সহ শিবলিঙ্গ। আবার প্রতিষ্ঠার সময়ে সবগুলি মন্দিরের সামনেই একটি করে বেল গাছ রোপন করা হয়েছিল বলে জানা যায়।স্থানীয়ভাবে কথিত রয়েছে, শিবমন্দির প্রতিষ্ঠার একটি প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে।

এই মন্দিরের নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে। শেষ হয়েছিল ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে। ওই সময় বর্ধমান সংলগ্ন নবাবহাট এলাকায় মহামারি দেখা দিয়েছিল। বহু মানুষের মৃত্যু হয়। স্বজন হারিয়ে শোকে ব্যথিত হন ওই এলাকার মানুষ। এই মন্দির গড়ে বাসিন্দাদের ঈশ্বরমুখী করে শোক ভোলানোর চেষ্টা করেন বর্ধমানের মহারানি বিষণকুমারী । সেই ভাবনা সামনে রেখে নবাবহাটে এই একশো আট শিব মন্দির গড়ে ওঠে। সেই মন্দির ধূমধাম করে প্রতিষ্ঠা হয়। শিবরাত্রির সময় এখানে অসংখ্য পর্যটক ভিড় করে থাকে।