কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের দেহে দানা বাঁধছে এই বিরল ছত্রাক

কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের দেহে দানা বাঁধছে এই বিরল ছত্রাক

 একেই রক্ষে নেই, তার ওপর যেনো সুগ্রীব দোসর। দেশে যেখানে করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত, সেখানে আবার জুড়ে বসেছে ছত্রাকের সংক্রমণ। সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দেখা মিলছে এক বিরল ছত্রাকের সংক্রমণ। মেডিক্যালের ভাষায় এই ছত্রাক 'ব্ল্যাক ফাঙ্গাস' (Black fungus) বা 'মিউক্রোমাইকোসিস' (mucormycosis) হিসেবে পরিচিত।

স্বাস্থ্য কর্মীদের কথায়, এই ছত্রাক (fungus) পাওয়া যায় মূলত ভেজা পৃষ্টে। বর্তমানে অনেক কোভিড আক্রান্ত রোগী সুস্থ্য হয়ে যাওয়ার পরে এই ছত্রাকে সংক্রমিত হতে দেখা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি আরও উল্লেখ করা তারা বলেন, এই ছত্রাকের ফলে অন্ধত্ব বা মারাত্মক অসুস্থতা এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুও হয়েছে সংক্রমিত রোগীর। কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে সুস্থ্য হওয়া একাধিক মানুষের মধ্যে মিউক্রোমাইকোসিস রোগ দেখা মিলেছে।

এই ছত্রাকের আক্রমনে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটে মানুষ। এর পাশাপাশি যোগী রাজ্য উত্তরপ্রদেশের মানুষও সংক্রমিত হচ্ছে এই বিরল ছত্রাকে। মিউক্রোমাইকোসিস দ্বারা উত্থাপিত ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নামে এই বিরল এবং বিপজ্জনক সংক্রমণের সঙ্গে মোকাবেলা করতে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকার ১২ সদস্যের একটি দল গঠন করেছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১২ সদস্যের দলে রয়েছে সঞ্জয় গান্ধী স্নাতকোত্তর ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সের বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি বিবৃতিতে আরও যোগ করে বলা হয়েছে, এই ছত্রাকের মোকাবেলার জন্য দ্রুত একটি প্রতিক্রিয়া দল (RRTs) তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গে ওষুধের প্রাপ্যতা এবং ছত্রাকে সংক্রমিত কেসগুলির ডাটাবেস নিশ্চিতকরণের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়াও আইসিএমআর নির্দেশিকা অনুসারে প্রাথমিক রোগ নির্ধারণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা কাজ করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস-এর সংক্রমণের ঝুঁকি সব থেকে বেশি থাকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত, ডায়াবেটিস (diabetes) রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইমিউনো-সাপ্রেসিভ থেরাপি (immuno-suppressive therapy) গ্রহণ করছেন এবং আইসিইউতে (ICU) আছেন এমন রোগীদের মধ্যে। এক চিকিত্‍সক জানাচ্ছেন, কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের দেহে ভাইরাসের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আর এই কারণে খুব সহজে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কোভিড রোগীদের সংক্রামিত করতে সক্ষম হচ্ছে। তবে এই ছত্রাক মানুষের মস্তিষ্কে পৌঁছালে আরাও মারাত্মক প্রমাণিত হতে বলেও চিকিত্‍সক উল্লেখ করেছেন।