ছুটি পেলেই ঘুরে আসুন রাজস্থান

ছুটি পেলেই ঘুরে আসুন রাজস্থান

রাজস্থান ভারতের একটি বৃহত্তম রাজ্য। রাজস্থান মানেই উষ্ণ-প্রাণবন্ত ও সরল জীবনধারা এবং ঐতিহাসিক যুদ্ধক্ষেত্রের উপর এর অবস্থান। ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত রাজস্থান ‘বর্ণময় ভূমি’ হিসাবে পরিচিত। এই রাজ্য বিভিন্ন দর্শনীয় এবং ইতিহাস সমৃদ্ধ ঘটনাবলী দ্বারা সমৃদ্ধ।

এই রাজ্য ভ্রমণকালে মাধ্যমে আপনি রাজপুত আড়ম্বরের হৃদয় বলে বর্ণিত সুন্দর মরুভূমি শহর যেমন জয়সালমের ও বারমের এবং উদয়পুর ও চিত্তোরগড় এর প্রতিভাকে চাক্ষুস করতে পারবেন। সবচেয়ে আকর্ষনীয় ইমারত, প্রাসাদ এবং অভূতপূর্ব বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং উষ্ণ ও ধার্মিক অধিবাসীদের মন্দিরসহ এই অঞ্চলটি পর্যটকদের কাছে একটি স্বর্গোদ্যান হিসাবে পরিচিত।

অনেক কিংবদন্তীর ভূমি, বীরত্ব ও উৎসর্গের গল্পে সমন্বিত রাজস্থান সম্ভবত ভারতে সবচেয়ে বেশী পর্যটকদের আকর্ষিত করে থাকে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই রাজস্থান এর বিশেষ কিছু দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।

১.অ্যালবার্ট হল্ যাদুঘর- রাজস্থান রাজ্যের প্রাচীনতম যাদুঘর হল অ্যালবার্ট হল যাদুঘর বা কেন্দ্রীয় যাদুঘর, এটি জয়পুরে রাম নিবাস বাগানের অভ্যন্তরে অবস্থিত। লন্ডনের আলবার্ট যাদুঘরের আদলে অ্যালবার্ট হল যাদুঘরটি নির্মিত হয়েছে এবং এটি ইন্দো-সারসেনিক স্থাপত্য শৈলীর প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। অবস্থান – রাজস্থানের জয়পুরে রাম নিবাস বাগানের অভ্যন্তরে অবস্থিত।

২.বাঁদেশ্বর মন্দির- এটি রাজস্থানের রাজকীয় রাজ্য বিকানের-এ অবস্থিত, যা প্রাসাদ এবং মন্দির সহ তার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং বিস্ময়কর সূক্ষ্ম স্থাপত্যের জন্য জনপ্রিয়। বাঁদেশ্বর মন্দিরটি তার সুন্দর অভ্যন্তরীণ সজ্জা, দেওয়াল চিত্র এবং শিল্পের জন্য বিখ্যাত এবং বিকানেরের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান হিসাবে পরিচিত।

৩.রানী সতী মন্দির- রাজস্থান রাজ্যের একটি ঐতিহাসিক শহর হল ঝুনঝুনা যা জয়পুর শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। চৌহান রাজবংশের সময়কাল থেকে ঝুনঝুনা একটি বাণিজ্যিক এবং লেনদেনের স্থান হিসাবে পরিচিত। ঝুনঝুনা শহরটি তার ধর্মীয় ভাবাবেগের জন্য বিখ্যাত, এখানে শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় রানী সতী মন্দির অবস্থিত রয়েছে। এই শহরকে জটিল ভাস্কর্য এবং ফ্রেস্কো সহ সজ্জিত প্রতীকী রাজস্থানী হাভেলীগুলির বাসস্থান হিসাবে গন্য করা হয়ে থাকে।

৫.মেহরানগড় দুর্গ- ভারতের অসামান্য এবং ঐশ্বর্যশালী মেহরানগড় দুর্গটি রাজস্থানের যোধপুর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে ১৫০ মিটার উঁচু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত।

৬.গালতা মন্দির- মহিমাম্বিত যন্তর মন্তর এবং উজ্জ্বল হাওয়া মহল, বিভিন্ন মন্দির সমন্বিত, গোলাপী রং-এর শহর জয়পুরে সারা বছর ধরে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়ে থাকে। জয়পুরের গালতা মন্দির হল একটি আকর্ষনীয় স্থান। অনমনীয় প্রতিবেশের অন্তরে অবস্থিত গালতা মন্দিরটি ‘বানর মন্দির’ নামেও পরিচিত। পাহাড়ের চূড়ার উপর অধিষ্ঠিত এই মন্দিরটি সুন্দর সিসোদিয়া রানী-কা বাগের নিকটে অবস্থিত। 

৮.সিটি প্যালেস- রাজধানী জয়পুরের সিটি প্যালেস হল স্থাপত্যের একটি অত্যাশ্চর্য নির্দশন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে অম্বরের কচ্ছওয়াড়া রাজপুত রাজা মহারাজা দ্বিতীয় জয় সিংহ দ্বারা এই প্রাসাদটি নির্মিত হয়েছিল। এই প্রাসাদের অভ্যন্তরে সুন্দর মার্বেলের কারুকার্য, চমৎকার স্তম্ভ, জালি বা জাফরি কাজ এবং খচিত অলঙ্করণ লালিত রয়েছে যা পর্যটকদের এখানে আকর্ষিত করে। জালেব চক্ এবং ত্রিপোলিয়া গেট হল সিটি প্যালেসের দুটি প্রধান প্রবেশপথ যা রাজস্থানের জয়পুরে অবস্থিত।