ঘনিষ্ঠ হয়েছি, কিন্তু অঞ্জনদা আর আমি ভিজে চুমু খাইনি: সন্দীপ্তা

ঘনিষ্ঠ হয়েছি, কিন্তু অঞ্জনদা আর আমি ভিজে চুমু খাইনি: সন্দীপ্তা

চিকিৎসক নিমা প্রধান এবং মা সারদামণি। আপাতত সন্দীপ্তা সেন এই দুই ‘অবতার’-এ। দুই রূপ নিয়েই দারুণ উত্তেজিত অভিনেত্রী, তাঁর অনুরাগীরাও। বুধবার প্রকাশ্যে এসেছে অঞ্জন দত্তের প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘মার্ডার ইন দ্য হিলস’-এর লুক। সিরিজটি ২৩ জুলাই মুক্তি পাবে হইচই প্ল্যাটফর্মে। ছবি এবং ট্রেলার বলছে, চিকিৎসক নিমা প্রধান চরিত্রটি যথেষ্ট মাত্রায় ধূসর এবং ভারিক্কি।

তাই কি? ‘‘একেবারেই তাই’’, আনন্দবাজার অনলাইনকে জানিয়েছেন সন্দীপ্তা। বলেছেন, এটি তাঁর প্রথম রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজে অভিনয়। চরিত্রও ধূসর। তবু মনস্তত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনার সুবাদে চরিত্র বুঝে নিতে একটুও অসুবিধে হয়নি। ‘‘তা ছাড়া, অঞ্জনদা তো ছিলেনই। আমাদের সবাইকে নিয়ে একাধিক বার আলোচনায় বসেছেন। খুব ভাল শিক্ষক। জলের মতো করে চরিত্র বুঝিয়ে দিয়েছেন।

সেই আলোচনা মেনে আমরা ক্যামেরার মুখোমুখি হয়েছি,’’ আরও যোগ করেছেন সন্দীপ্তা। চরিত্র অনুযায়ী তাঁর চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। চুল টেনে বাঁধা। অভিনেত্রীর দাবি, গাঢ় লিপস্টিক, হাল্কা জাঙ্ক জুয়েলারি ছাড়া কোনও রূপসজ্জা ছিল না তাঁর। পরিচালক চেয়েছিলেন, এক দম স্বাভাবিক ‘লুক’ দিতে। শুধু ভারিক্কি ভাব আনতে ওজন বাড়িয়েছিলেন সন্দীপ্তা। সব মিলিয়ে একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা, দাবি অভিনেত্রীর। নিমা আপাদমস্তক রহস্যে মোড়া।

আর অন্য দিকে সারদামণি জগজ্জননী। নিজেকে ক্রমাগত ভাঙতে কোনও চাপ বা কষ্ট?... প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই জবাব অভিনেত্রীর, ‘‘আমরা অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এ ভাবেই নিজেদের গড়েপিটে নিই। একটা চরিত্রে অভিনয় শেষ মানে তাকে ভুলে যেতে হবে। নইলে আমরা বাঁচতে পারব না। আমি খুশি পর পর নিজেকে এ ভাবে ভাঙতে পেরে। দর্শকেরা এক সঙ্গে আমার দুটো রূপ দেখবেন।

কে, কেমন প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সেটাই দেখার।’’ মা সারদামণি হয়ে ওঠার জন্য পড়াশোনা করতে হয়েছে সন্দীপ্তাকে। তবে অনেকের মতো নিরামিষ খাওয়া, সংযমে থাকা, এ সব করেননি। অকপটে জানিয়েছেন, ‘‘দুর্গা’ চরিত্রে অভিনয়ের সময় অনেকেই বলেছিলেন, নিরামিষ খাওয়াদাওয়া কর। আমি শুনিনি। ভাল করে চরিত্রকে জানলে, চিত্রনাট্য পড়লে, সংলাপ মনে গেঁথে নিলে কোনও চরিত্রে ঢুকতে অসুবিধে হয় না আমার।’’  কিন্তু ওয়েব সিরিজে চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে অভিনেত্রী ‘ভিজে চুমু’ খেয়েছেন অঞ্জন দত্তকে।

সেই সাবলীলতা কী করে আনলেন? পরিচালক কোনও টিপস দিয়েছিলেন? রহস্য ফাঁস এর পরেই। সন্দীপ্তার দাবি, ‘‘চিত্রনাট্য মেনে আমি আর অঞ্জনদা ঘনিষ্ঠ হয়েছি। কিন্তু কেউ কাউকে ভিজে চুমু খাইনি! পুরো দৃশ্যটাই চুরি করে তোলা হয়েছে। দেখতে ভীষণ স্বাভাবিক লেগেছে। অথচ, আমাদের কোনও অস্বস্তি হয়নি।’’ পাশাপাশি এও জানালেন, অভিনয়ের খাতিরে এই ধরনের দৃশ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এমনিতেই সাবলীল।

কারণ, পুরোটাই হয় চিত্রনাট্যের দাবি মেনে। কিছু দিন আগেই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে হইচই-এর আরেক জনপ্রিয় রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজ ‘পাপ’-এর শেষ পর্বে দুঁদে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। ‘ভাল বন্ধু’ কোনও পরামর্শ দিয়েছেন? পাল্টা প্রশ্ন সন্দীপ্তারও, ‘‘আমাকে নিয়ে কথায় অবধারিত ভাবে রাহুল আসবেই?’’ তার পরেই অনায়াস জবাব, রাহুল রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। অঞ্জন দত্তের ‘ব্যোমকেশ ফিরে এল’ ছবিতেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে ওঁর। সেই জায়গা থেকে রাহুলের বক্তব্য, সন্দীপ্তা জীবন থেকে সেরা পাওনা পেয়ে গেলেন।