সপ্তমভাব থেকে স্বামী বা স্ত্রীর চরিত্র জেনে নিন (প্রথম পর্ব)

সপ্তমভাব থেকে স্বামী বা স্ত্রীর চরিত্র জেনে নিন (প্রথম পর্ব)

জ্যোতিষ নিয়মে সপ্তমভাবকে নিয়ে অনেক আলোচনা করা যায়। আমরা এখানে বিবাহ, স্বামী-স্ত্রী বা পতি-পত্নী নিয়ে আলোচনা করব। সপ্তম ভাব পার্থিব মিলনের ভাব এবং বৈধ সম্বন্ধের নিদের্শেক। এখান থেকে বিবাহিত জীবন দাম্পত্যসুখ, বিরহ, স্বামী বা স্ত্রীর চরিত্র প্রসঙ্গে জানা যায়। আমরা এখানে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন গ্রহ অবস্থান করার জন্য স্বামী বা স্ত্রী কেমন হবে সেই বিষয়ে দিক নির্দেশ করব—

(১) সপ্তমে রবি শুভ ভাবে থাকলে একটু উচু ঘরে বিয়ে হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রী চাকুরীরতা হন। তবে সপ্তমে রবি থাকলে দাম্পত্য সুখের কিছু হানি হয়ে থাকে। তবে রবির সঙ্গে বুধ সংযুক্ত থাকলে অবস্থা অনেকটা সামাল দেওয়া যায়। না হলে জাতকের স্ত্রীর সন্তাপ হেতু বা অন্য কোনও কারণে ব্যাকুল থাকতে হয়ই। জাতক/জাতিকার সব সময় মনে কী ভাবে স্ত্রী বা স্বামীকে সুখী রাখব আর এই চিন্তা থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও এক সময় বিচ্ছেদ আসে বা আলাদা থাকে।

(২) সপ্তমে চন্দ্র শুভ ভাবে থাকলে ভাল শোভনযুক্ত নরম মনের স্ত্রী পেয়ে থাকে, দাম্পত্য সুখশান্তি লাভ হয়। ক্ষীণচন্দ্র পাপযুক্ত বা দৃষ্ট হলে জাতক/জাতিকা অসুস্থ স্ত্রী/স্বামী লাভ হয়। ফলে দাম্পত্য সুখে অনেকটা হানী হয়। দুর্বল চন্দ্রে মায়ের সঙ্গে বউয়ের মন কষাকষি থাকেই।

(৩) সপ্তমে মঙ্গল থাকলে জাতক/জাতিকা বলিষ্ঠ স্বভাবের স্ত্রী বা স্বামী লাভ হয়। এখানে মঙ্গল কুজ দোষ বা ভৌম দোষ সৃষ্টি করে, এতে বউ বা স্বামী মারা যায় অথবা বিচ্ছেদ হয়। বিবাহিত জীবন যদি টিকে যায় তবে চনমনে স্বভাবের স্বভাবের বউ বা স্বামী লাভ হয়। এখানে স্বামি স্ত্রী পরস্পর পরস্পরকে প্রবলভাবে চায়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্য খুনসুটি  হয়। এই ভাবেই দাম্পত্য জীবন চলে। অনেক সময় সপ্তমস্থ মঙ্গল (বৃশ্চিক রাশিতে) কিছুটা পুরুষ স্বভাবযুক্ত স্ত্রী লাভ হয়।

(৪) সপ্তমে বুধ থাকলে জাতক আজীবন বালিকা স্বভাবের বউ পেয়ে থাকে। একই ভাবে জাতিকারা বালক স্বভাবের স্বামী পেয়ে থাকে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অল্প বয়সেই বিয়ে হয়। এরা দাম্পত্য সুখে সুখী হয়। যত দিন সপ্তম ভাব অশুভ গ্রহ দ্বারা আক্রান্ত না হয়। এদের মধ্যে আজীবন কচি কচি ভাব থাকে, যা অনেক সময় লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পুরুষ জাতকের পক্ষে স্ত্রী সম্ভোগের সময় তার শুক্রের ধারণা শক্তির স্থায়িত্বকাল বেশী সময় থাকে না।

(৫) সপ্তমে বৃহস্পতির জাতক/জাতিকা ভাল চরিত্রের স্ত্রী বা স্বামী লাভ করে থাকে। শাস্ত্রে বলা আছে সপ্তমস্থ বৃহস্পতি জাতকের ক্ষেত্রে নিবিড় নিতম্বিনী, পঙ্কজ নয়না মনোরমা স্থির যৌবন ভাবাপন্না পতিপ্রাণা ধর্মকর্মে নিপুণ গুণবতী বউ লাভ হবে। এইখানে বৃহস্পতি থাকা মানেই জ্ঞানী বা বোধসম্পন্ন স্বামী বা স্ত্রী লাভ হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বৃহস্পতি একবারই বিয়ে করায়।

(৬) শুক্র জায়া ভাবে অবস্থান করলে শাস্ত্রে বলা আছে জাতক পরমাসুন্দরী চিরযৌবনা, পঙ্কজাক্ষী বিচিত্রবেশভূষণাঢ্যা স্ত্রী লাভ হবে। অনেক ক্ষেত্রে নৃত্য জানা, গান বাজনায় পটু, কলাবিদ্যায় পারদর্শী বউ লাভ হয়। জাতিকারা এই রকম বিপরীত ভাবনাযুক্ত হ্যান্ডসাম স্বামী লাভ করবে। সামাজিক ভাবে জাতক/জাতিকা এক স্ত্রী বা স্বামী নিয়ে ঘর সংসার করলেও সপ্তমে শুক্র থাকলে তারা কখনওই এক স্বামী বা এক স্ত্রীতে সন্তুষ্ট নয়। বহুচারিতা বা বহুগামিতা সপ্তমস্থ শুক্রের বৈশিষ্ট।

(৭) সপ্তমে স্ত্রী শনি থাকলে জাতক সুন্দরী বলতে যা বোঝায় তা লাভ হয় না। কিন্তু বিশ্বস্ত, নিষ্ঠাবতী, কর্মঠ স্ত্রী লাভ হয়। তার চেহারা ও জৌলুশে গ্ল্যামার থাকে না এবং চেহারায় কমবেশি শুষ্কতা থাকে। জীবন সংগ্রাম করতে করতে সে একটু কাঠখোট্টা গোছের হয়। সপ্তমে শনি থাকলে জাতক/জাতিকার দেরিতে বিয়ে হয়। এখানে স্ত্রী কিছুটা মায়ের মতো হয়। সে স্বামীর সব খুঁটিনাটি বিষয়ে নজর দিয়ে থাকে। এখানে শনি থাকলে জাতক/জাতিকা যে স্ত্রী বা স্বামী পাবেন সে বিপদের দিনে পরস্পর পরস্পরকে ছেড়ে পালিয়ে যায় না যেটা সপ্তম ভাবে আর কোনও গ্রহ দেয় না। এখানে শুভ শনির দৃষ্টি থাকলেও এই একই ফল পাওয়া যায়।  

(৮) সপ্তমে রাহু থাকলে এবং এই রাহুকে কোনও শুভ গ্রহ দৃষ্টি না দেয় বা যুক্ত না হয়, তা হলে ধরেই নিতে হবে জাতক হলে অশুভ ও অসৎ চরিত্রের স্ত্রী পাচ্ছেন, তাকে বাইরের দিক থেকে দেখতে যতই সুন্দরী বা করিত্কর্মা বা পড়াশোনা জানা হোক না কেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে এটাকে কর্মফল বলেই মনে করি।

সপ্তমে রাহু মানেই অতৃপ্ত স্বভাবের স্বামী বা স্ত্রী লাভ হয়। এরা আজন্ম অতৃপ্ত, কোনও ভাবেই এদের সন্তুষ্ট করা যায় না।

(৯) সপ্তমে কেতু রাহুর মতোই অতৃপ্ত, এদের মধ্যে ভয়ঙ্কর মাত্রায় গোপনচারিতা থাকে যা বাইরে থেকে কিছুতেই বুঝতে পারা যায় না। এরা স্বামী বা স্ত্রী কম বেশী অসুস্থ মনের হয়। স্বভাবে বেশ খিটখিটে। শুভ গ্রহ দৃষ্টি পেলে ফলের মাত্রার তারতম্য ঘটবে।