মাস্টারদা সূর্য সেনের জীবনী

মাস্টারদা সূর্য সেনের জীবনী

সূর্য সেন Surya Sen বা সূর্যকুমার সেন যিনি মাস্টারদা নামে সমধিক পরিচিত, তার ডাকনাম ছিল কালু, ভারতবর্ষের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। পূর্ববঙ্গে জন্ম নেওয়া এই বাঙালি বিপ্লবী তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নিজ জীবন বলিদান করেন। সূর্যসেনের বাহিনী কয়েকদিনের জন্যে ব্রিটিশ শাসনকে চট্টগ্রাম এলাকা থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই সূর্য সেন এর জীবনী সম্পর্কে।

১.জন্ম ও পরিচয়- মাষ্টারদা সূর্য সেন চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার অন্তর্গত নােয়াপাড়া গ্রামে ১৮৯৪ সালের ২২ শে মে জন্মগ্রহণ করেন। সূর্য সেন এর পিতার নাম ছিলাে রাজমণি সেন। মায়ের নাম শশীবালা ।সূর্য সেনরা ছিলেন চার বােন ও দুইভাই। সূর্য সেনের যখন চার বছর বয়স তখন তার বাবা মারা যান। সূর্য সেন তার কাকা গৌরমণি সেনের কাছে মানুষ হন। 

২.স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদান- বালক বয়স থেকেই সূর্য সেন বুঝতে পেরেছিলেন যে , সাত সমুদ্র তেরাে নদীর ওপার থেকে ছুটে আসা ইংরেজরা আমাদের শত্রু। শত্রুদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতেই হবে। তাই কলেজে পড়ার সময়ই তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে , ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য তিনি বিপ্লবী সংগ্রামে যােগদান করবেন। বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে পড়ার সময় কলেজের এক অধ্যাপক সতীশচন্দ বক্রবর্তী তাকে ধীরে – ধীরে বিপ্লবীভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করেন।

৩.বিপ্লবী দলে যোগদান-  সে সময় চট্টগ্রামে একটি ক্ষুদ্র গােপন বিপ্লবী দল ছিলাে। ১৯১৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে এই বিপ্লবী দলের কয়েকজন ছাড়া। বাদবাকি প্রায় সকলকে গ্রেফতার করে সরকার জেলে আটকে রেখেছিলাে। সূর্যসেন এই সময় চট্টগ্রামে তাদের সঙ্গে যােগ দেন। বিপ্লবের জন্য স্বচ্ছ চিন্তা , জ্ঞান , বুদ্ধি ও মেধা অন্যদের তুলনায়। বেশি থাকায় তিনি কিছুদিনের মধ্যেই দলের একজন নেতা হয়ে ওঠেন। বিপ্লবীরা তার ওপরই সব ব্যাপারে বেশি ভরসা করতাে। 

৪.কর্মজীবন- সূর্য সেন পরে ছাত্রদের মাঝে বিপ্লবের মন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষকতার পেশা গ্রহণ করেছিলেন। সূর্য সেন তার চরিত্রের মাধুর্য। দিয়ে বুঝিয়ে – সুজিয়ে দলে দলে যুবকদের তার বিপ্লবী দলে টেনে আনেন। তিনি দেশপ্রেমের শিখাকে প্রত্যেকের অন্তরে জ্বেলে – উকে দেন। ছাত্রদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মেলামেশার কারণে তিনি নিজের স্কুল ও শহরের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ছাত্ররা একান্ত আপনজনের মতাে তাকে মাষ্টারদা  বলে ডাকতে শুরু করে। এই ডাক তিনি খুব পছন্দ করতেন।

৫.চট্টগ্ৰাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন-  ১৯৩০ সালের ১৮ ই এপ্রিল মাষ্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে মাত্র। কয়েকজন যুবক রাত সাড়ে দশটায় চট্টগ্রাম পাহাড়ের উপর অবস্থিত অস্ত্রাগারটি আকষ্মিকভাবে আক্রমণ করে দখল করে নেন এবং সমস্ত অস্ত্র লুণ্ঠন ও ধ্বংস করে ফেলেন। সূর্য সেন সেই রাতে ঘােষণা করেন যে, চট্টগ্রাম এই মুহূর্তে দুশাে বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল চূর্ণ করেছে। এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম স্বাধীন।

৬.মৃত্যু- ব্রিটিশ সরকারের আদালতে বিচারের নামে হল প্রহসন। বীর বিপ্লবী সূর্যসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। ১৯৩৪ খ্রিঃ ১২ জানুয়ারি ঘাতকের হাতে সূর্য সেনের ফাঁসি হল।