প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়

প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়

প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। গত দু-তিন দিন ধরে পেটের সমস্যা ভুগছিলেন তিনি। বুধবার রিয়েলিটি শো-তে তিনি অংশও নিয়েছিলেন। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি বাড়িতে মারা যান। অভিনয় ছিল তাঁর প্রাণ। লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন নিয়ে বাঁচতেন তিনি। শ্যুট করতে করতেই চলে গেলেন অভিষেক চট্টোপাধ্যায়।

বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। অভিনেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ টলিউড। ভরত কলের কথায়, ‘‘মঙ্গলবার খাদ্যের বিষক্রিয়ায় প্রথমে অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিষেক। ওই অবস্থাতেই কিছুক্ষণ শ্যুটিংয়ের পর তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। বুধবারও তিনি স্টার জলসার 'ইসমার্ট জোড়ি' রিয়্যালিটি শো-তে শ্যুট করতে আসেন। সেখানেই আচমকা প্রেসার নেমে আসে ৮০-তে।

সঙ্গে সঙ্গে কালো কফি দেওয়া হয় তাঁকে। আন্দাজ দুপুর আড়াইটে নাগাদ বাড়িও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই শেষ দেখা আমাদের।’’   গত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে নায়কের ভূমিকায় টলিউডে বক্স অফিস ভরিয়ে রেখেছিলেন অভিষেক। উত্তমকুমারকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল টলিপাড়ায় তখন যে সব 'ইয়ং ম্যান' নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অভিষেক।

সালটা ১৯৮৬, ওই বছরই টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে 'অভিষেক' ঘটে বাংলা ছবির আদরের 'মিঠু'র। তরুণ মজুমদারের ছবি 'পথভোলা' দিয়ে রুপোলি পর্দায় পথচলা শুরু অভিষেকের। তারপর একের পর এক বাংলা মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিতে বক্স অফিসে সদর্পে বিচরণ করেছেন অভিষেক।  অভিষেক যখন কেরিয়ার শুরু করেন, সে সময় টলিপাড়ায় রাজত্ব চলেছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তাপস পালদের। টলিউডের দুই হেভিওয়েটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিষেক চট্টোপাধ্যায় কিন্তু সফল নায়ক হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে বাংলা সিনেমা পেয়েছিল আরও এক সুপারস্টার চিরঞ্জিৎকে। প্রসেনজিৎ-তাপস পাল-চিরঞ্জিৎ- এই ত্রয়ীর কাছে অবশ্য কখনও হার মানতে হয়নি অভিষেককে। বরং নিজের ক্যারিশ্মায় আলাদা পরিচিতি তিনি তৈরি করেছিলেন। অনেকেরই হয়ত মনে পড়বে, টলিপাড়ায় সে সময় সিক্স প্যাকের স্রষ্টা ছিলেন অভিষেকই। সুদর্শন চেহারা, কোঁকড়া চুল, ঠোঁটের ওপর হাল্কা গোঁফের ফর্সা হিরোর প্রেমে পড়েননি, এমন মহিলাকে হয়ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। দর্শকরা ভালোবেসে বলতেন, "ঠিক যেন জ্যান্ত কার্তিক!"