কৌশানি শহরের বিশেষ কিছু দর্শনীয় স্থান

কৌশানি শহরের বিশেষ কিছু দর্শনীয় স্থান

দেবরাজ্য উত্তরাখণ্ড নানান বর্ণময়তার সাক্ষী । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তো বটেই মানুষের আতিথেয়তাও বেশ চমকপ্রদ। ছোট্ট রাজ্য উত্তরাখণ্ডের কৌশানি শহর অনেকটা রূপকথার রাজ্যের মতো। তুষারশুভ্র হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই ছোট্ট শহরের রূপসৌন্দর্য কিন্তু অতুলনীয়।কৌশানি শহরটি উত্তরাখণ্ড রাজ্যের বাগেশ্বর জেলায় অবস্থিত।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই শহরের উচ্চতা প্রায় ১৮৯০ মিটার। কুমায়ুন হিমালয়ের অন্তর্ভূক্ত এই শান্তিপ্ৰিয় ছোট্ট শহর থেকে ত্রিশূল, নন্দাদেবী, পঞ্চচুল্লির একটা সুন্দর দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই কৌশানি শহরের বিখ্যাত কিছু দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।

১.গান্ধী আশ্রম- ১৯২৯ সালে মহাত্মা গান্ধী এই স্থানে ভ্রমণ করে অভিভূত হয়েছিলেন। কৌশানির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি এই শহরকে ভারতের সুইজারল্যান্ড হিসেবে আখ্যা দেন। পরবর্তী কালে গান্ধীজীর এই স্মৃতিবিজড়িত স্থানটিকে গান্ধী আশ্রমে পরিণত করা হয়। বর্তমানে এটি একটি রিসার্চ সেন্টার হিসেবে পরিচিত। এখানে গান্ধীজীর ব্যবহার্য বই এবং চিত্র সহযোগে একটি মিউজিয়াম ও নির্মাণ করা হয়েছে।

২.বৈজনাথ মন্দির- কৌশানি থেকে ২০কিমি অদূরে অবস্থিত বৈজনাথ মন্দির। ১২শ শতকে গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত এই বৈজনাথ মন্দিরটি মূলত একটি শিবমন্দির। পুরাণ অনুযায়ী ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর বিবাহ হয় গোমতী নদী এবং গরুর গঙ্গার সংযোগস্থলে। আর সেই সংযোগস্থলেই কাত্যুরী রাজা এই বৈজনাথ মন্দির নির্মাণ করেন। এখানে প্রধান শিব মন্দির ছাড়াও গণেশ, পার্বতী, চণ্ডিকা, কুবের, সূর্য, এবং ব্রহ্ম-এর মন্দির রয়েছে।

৩.শাল ফ্যাক্টরি- কৌশানির শাল ফ্যাক্টরিটি ২০০২ সালে নির্মাণ করা হয়। এখানকার বিশেষত্ব কুমায়নী শিল্পকে কাজে লাগিয়ে শাল শিল্পের নতুনত্বের সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় অধিবাসীরাও জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন শাল শিল্পকে।

৪.রুদ্রধারী জলপ্রপাত- কৌশানি থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রুদ্রধারি জলপ্রপাত ও মন্দির। প্রাচীন গুহা পরিবেষ্টিত এই মন্দিরে যেতে অবশ্য অনেকটা পথ হাঁটতে হয়। এছাড়া এখানে চা বাগান উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।

৫.হিমালয়ের নয়টি শৃঙ্গ- কৌশানি থেকে হিমালয়ের দৃশ্য বড়োই নয়নাভিরাম। প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার ওয়াইড প্যানোরমিক ভিউ এখান থেকে পাওয়া যায়। কৌশানি থেকে হিমালয়ের বিস্তার কিছুটা হলেও বোঝা সম্ভব। হিমালয়ের প্রায় নয়টি শৃঙ্গ যেমন ত্রিশূল, নন্দাদেবী, চৌখাম্বা, পঞ্চচুল্লি ইত্যাদি এখান থেকে দেখা যায় এবং বলতেই হয় প্রত্যেকটি তার আলাদা আলাদা রূপ ও সৌন্দর্য নিয়ে অহংকারের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বিরাজমান। অপূর্ব সুন্দর এই ধ্যানগম্ভীর হিমালয়ের সামনে সবকিছুই কেমন তুচ্ছ মনে হয়।