আমের আঁটি কি কি রোগ প্রতিরোধ করে জেনে নিন

আমের আঁটি কি কি রোগ প্রতিরোধ করে জেনে নিন

বাংলা প্রবাদে আমের আঁটি নিয়ে নানা ব্যবহার রয়েছে। আমে-দুধে মিশি গেলে আঁটিটা গড়াগড়ি খায় বা বিভূতিভূষণের অপুর আমআঁটির কথাও ভোলেনি বাঙালি। আমের আঁটি যে তুচ্ছ- অবহেলার গুণপনা নেই এ কথা কিন্তু সত্য নয়। ফলের রাজা আম। এর স্বাদে মুগ্ধ গোটা দুনিয়ার মানুষ। অনেকেই আছেন কেবল আমের জন্যই গরমকাল ভালোবাসেন।

তবে, আম খাওয়ার পর ফেলে দেওয়া হয় এর আঁটি বা বীজ।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, আম খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু আমের বীজ খেলে? গবেষণা বলছে বীজ খেলে কমে কোলেস্টেরল, ডায়াবিটিস। শুধু তাই নয় আরও বেশ কয়েকটি রোগের দাওয়াই এই আমের আঁটি। তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই আমের আঁটি কি কি রোগ প্রতিরোধ করে।

১.ডায়রিয়া নিরাময় করে- ডায়রিয়ার মতো সমস্যা এড়াতে আম আঁটির গুঁড়ো খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ জন্য আমের বীজ ভালো করে ধুয়ে এর পর শুকিয়ে নিয়ে গুঁড়ো করে পিষে নিন। এই পাউডারটি এক গ্লাস জলে মিশিয়ে তাতে সামান্য মধু মিশিয়ে খেলে দ্রুত সমস্যা মিটে যায়। তবে, একবারে ১ গ্রামের বেশি পাউডার না নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

২.কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে- কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও কাঁচা আমের বীজ খুবই কার্যকরী। নরম এই বীজ কামড়েই খেলে ভালো, তবে তা না পারলেও ক্ষতি নেই। কাঁচা আমের বীজ শুকিয়ে গুঁড়ো করে দুধের সঙ্গে ব্যবহার করুন। এইভাবে, শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। আমের বীজ গুঁড়ো করে খেলে পাউডার সেবন খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে।

৩.হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়- এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। এটি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আমের গুঁড়ো খেলে শরীরের জন্য অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। নিজেকে সুস্থ রাখতে আপনি খুব অল্প পরিমাণে পাউডার গ্রহণ করুন।

৪.হজম শক্তি বৃদ্ধি করে- যারা প্রায়ই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাদের জন্য আমের আঁটি গুঁড়ো সমাধান। আমের বীজের ফেনোল এবং ফেনোলিক যৌগগুলিতে পূর্ণ, যা হজমে সহায়তা করে। পাউডার খাওয়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতির কারণে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতেও সাহায্য করে।

৫.স্কার্ভি রোগের চিকিৎসা করে- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমের আঁটির পাউডার স্কার্ভি রোগীদের জন্য জাদুকরী প্রতিকার। এর জন্য আপনাকে এক ভাগ আমের পাউডারের সঙ্গে দুই ভাগ গুড় এবং চুন মিশিয়ে খেতে হবে। আপনি সাধারণত ভিটামিন সি এর দৈনিক ডোজ পূরণ করতে এটি খেতে পারেন।