চুলের যত্নে মেথির অবদান জেনে নিন

চুলের যত্নে মেথির অবদান জেনে নিন

আদিকাল থেকেই মানুষের চুল নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। চুল নিয়ে বিব্রত থাকতে হয়েছে অনেককে অনেক সময়। কি করে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যায়, চুলের সুন্দর আকার দেওয়া যায়- এসব ভাবনা কিন্তু সবসময়ই ছিল। সুমেরু সভ্যতার ললনারা বিশেষ করে উচ্চ সম্প্রদায়ের সুন্দরীগণের কাছে বড় চুলই ছিল সৌন্দর্যের প্রতীক। তারা চুলে স্বর্ণরেণু ব্যবহার করতেন, নাম না জানা হলুদ সুগন্ধীও চুলে মাখতেন।

এছাড়াও মেহেদী ব্যবহারে চুল কাঁচা করে বয়স ঢেকে রাখার চেষ্টা সব দেশেই ছিল। রোম সাম্রাজ্যেবিস্তৃতকলে যেসব যুদ্ব বন্দিনীর চুলের রং ছিল স্বর্ণালী তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হত। পরে লোহার আঁকশিতে চুলকে কিছুদিন জড়িয়ে রাখার পর যখন চুল জট পাকিয়ে কোঁকড়া মত হত তখন তা এক ধরনের হলুদ সাবান  দিয়ে কাঁচা করা হত। এরপর এই সোনালী পরচুলা পরে স্ত্রীরা স্বামীদের কাছে নিজেদের আকষর্ণীয় করে তুলতো। তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই চুলের যত্নে মেথি এর অবদান সম্পর্কে।

১. চুল পড়া সমস্যায় - চুল পড়া সত্যিই একটি বিব্রতকর সমস্যা। বহুবিধ কারণেই চুল পড়তে পারে। তবে দৈনিক গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত চুল পড়াকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে বেশী করে চুল পড়া শুরু করলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এর জন্য চিন্তার ভারটা মেথির উপর ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়। চুল পড়া সমস্যায় এবং চুলের যত্নে মেথির ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকরী।

২.খুশকি দূর করতে- খুশকি চুলের অন্যতম প্রধান সমস্যা যা সাধারণত বয়:সন্ধিকালের পূর্বে দেখা যায় না। খুশকি হলে মোটামুটি সবাই লক্ষণ দেখে সহজেই বুঝতে পারে যে মাথায় খুশকি হয়েছে। একটু সচেতনতা ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে সহজেই খুশকিমুক্ত ঘন আর দীর্ঘ চুল পাওয়া যায় এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিস্কৃতি লাভ করা যায়। ২-৩ চা চামচ মেথি ১ কাপ পানিতে ১০-১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এবার মেথিসহ কিছুটা জলে ব্লেন্ড করে পেস্ট করে নিতে হবে। এতে ২-৩ চা চামচ টক দই যোগ করতে হবে।

৩.চুলের অকালপক্কতা রোধে- চুল পাকা নিয়ে অনেকেই হতাশায় ভোগেন। বিশেষ করে অল্প বয়সেই যাদের চুল পাকা শুরু হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অপুষ্টি ও অযত্নের জন্যও চুলে অকালপক্কতা দেখা দিতে পারে। শরীরে আয়োডিন ও ভিটামিনের অভাবে চুলের যে স্তরে রঙের কোষ তৈরী হয়, সেই স্তরের রঞ্জক কোষ তৈরী বন্ধ হয়ে যায় এবং চুল সাদা হতে শুরু করে। অনেক সময় তীব্র মানসিক আঘাতে, জটিল অসুখেও কম বয়সে চুল সাদা হয়ে যেতে পারে। নারিকেল তেলে কমপক্ষে ২দিন মথি ডুবিয়ে রাখতে হবে।এবার এই তেল কুসুম গরম করে মাথায় ত্বকে ম্যাসাজ করতে হবে।

৪.চুলের বৃদ্ধি- মেথিতে প্রচুর পরিমাণে লেসিথিন রয়েছে যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগায় এবং চুলের বৃদ্ধিতে ও চুল গজাতে কার্যকরী। ১ টেবিল চামচ মেথি এবং ১ চা চামচ সরিষা দানা পাউডার করে নিতে হবে। ২-৩ টেবিল চামচ কুসুম গরম জলেতে এই পাউডার ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিহি পেস্ট তৈরী করতে হবে।

৫.ময়েশ্চারাইজার ও কন্ডিশনার হিসেবে- ৩ টেবিল চামচ মেথি ১ কাপ পানিতে সারারাত ভিজিয়ে সকালে জলটুকু ছেঁকে নিতে হবে।চুল শ্যাম্পু করার পর এই জলটুকু দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। মেথির এরূপ ব্যবহার চুলকে কন্ডিশন করে এবং চুলে ময়েশ্চারাইজিং-এর কাজ করে। এটি চুলকে নরম এবং ম্যানেজেবল করে চুলকে সিল্কি এবং চকচকে করে তুলতেও সাহায্য করে।

৬.চুল ঝলমলে করতে- মেথি ৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে বেটে নিতে হবে। একটি ডিমের সাদা অংশ ও ১ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখতে হবে। ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে।