রবিবার সকালে করুন সূর্য পুজা, দুশ্চিন্তা মুক্ত ভাবে কাটবে সারা সপ্তাহ

রবিবার সকালে করুন সূর্য পুজা, দুশ্চিন্তা মুক্ত ভাবে কাটবে সারা সপ্তাহ

ঈশ্বর হলেন মহাবিশ্বের জীব ও জড় সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রক তিনিই। ঈশ্বরের শক্তিতে বিশ্বাসীকে আস্তিক আর অন্যপক্ষকে নাস্তিক বলা হয়।শুধুমাত্র একজন সার্বভৌম ঈশ্বরের ধারণাকে বলা হয় একেশ্বরবাদ। পঞ্চদেবতা পূজা বা পঞ্চায়তন পূজা হল হিন্দুধর্মের স্মার্ত সম্প্রদায়ের একটি পূজা পদ্ধতি। কথিত, অষ্টম শতাব্দীর হিন্দু দার্শনিক আদি শঙ্কর পঞ্চদেবতা পূজার প্রবর্তন করেন। এই পদ্ধতিতে পাঁচ দেবতার পূজা হয়— গণেশ,শিব, সূর্য, বিষ্ণু ও দুর্গা। স্মার্ত পারিবারিক নিয়ম অনুসারে, এই পঞ্চদেবতার একজন থাকেন কেন্দ্রে এবং বাকিরা কেন্দ্রীয় দেবতাকে ঘিরে থাকেন।

ছোট মূর্তি বা পাঁচ ধরনের বিশেষ পাথরে বা মাটিতে আঁকা বিশেষ চিত্রে (যন্ত্র) পঞ্চদেবতার পূজা হয়।স্মার্তরা এই পঞ্চদেবতাকে পৃথক দেবতা হিসাবে না দেখে ব্রহ্মের পাঁচটি রূপভেদ মনে করেন। স্মার্ত মন্দিরগুলির গর্ভগৃহে পঞ্চদেবতা পূজার জন্য বিশেষ আসন দেখা যায়।সপ্তাহের প্রতিটি দিনে কোনো না কোনো দেবদেবীর পূজা করা হয়। আসলে হিন্দুদের মধ্যে একটি কথা বিশ্বাস করা হয় দেবদেবীদের আরাধনার মধ্য দিয়ে মনের মধ্যে থাকা সমস্ত নেগেটিভ শক্তির বিনাশ হয়, পজিটিভ শক্তি আনয়ন হয়।

তাই প্রত্যেক দিনই কোনো না কোনো দেবদেবীর পূজো করা হয়।তাই সপ্তাহের শুরুর দিন অর্থাত রবিবার কোন পূজো করা উচিত তা নিয়ে বেশ দ্বন্ধ রয়েছে অনেকের মধ্যে। আসলে রবিবার সাধারণত সূর্যদেবের পূজো করা হয়ে থাকে। সূর্য দেবতাকে প্রতিদিনই আরাধনা করা যায়। কিন্তু রবিবার সাধারণত সূর্য পূজো করা হয়। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী সূর্যদেবের পুজো করলে অক্ষয় ফল পাওয়া যায়। এর ফলে সুখ-সমৃদ্ধি, মান-সম্মান, পদ-প্রতিষ্ঠা, সরকারি চাকরি এবং উন্নত স্বাস্থ্যের অধিকারী হন উপাসক। যাঁরা সরকারি চাকরি পেতে চান, তাঁদের অবশ্যই সূর্যের উপাসনা করা উচিত। 

রবিবারের দিন সূর্যকে সমর্পিত। এ দিনেই সূর্যের উপাসনা করা উচিত। এখানে জানুন, সূর্যের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য কী কী কাজ করা উচিত।

  • ধন, বৈভব, যশের কামনা করে থাকলে রবিবারের দিন প্রত্যক্ষ দেবতা সূর্যের সাধনা করতে ভুলবেন না। এদিন, বিধি অনুযায়ী পুজো ও উপোস করলে সমস্ত বাধা দূর হয় ও সরকারি চাকরি ও ব্যবসায় সাফল্য হাতে আসে।
  • রবিবার স্নান করে সূর্যকে জলের অর্ঘ্য দেওয়া উচিত। শুধু রবিবারই নয়, রোজ এই অর্ঘ্য দেওয়া উচিত। ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী, নিয়মিত জলের অর্ঘ্য দিলে সূর্য খুশি হন।
  • সূর্য উপাসনায় মন্ত্র জপ করলে মনোকামনা শীঘ্র পুরো হয়। সুখ-সমৃদ্ধি, উন্নত স্বাস্থ্য ও সরকারি চাকরির জন্য সূর্যের মন্ত্র উপযোগী। এই মন্ত্রটি হল—

এহি সূর্য সহস্ত্রাংশো তেজোরাশো জগত্পতে।

অনুকম্পয় মাঁ ভক্ত্যা গৃহণাধ্য্র দিবাকর।।

ওম ঘৃণি সূর্যায় নমঃ।।

ওম এহি সূর্য সহস্ত্রাংশো তেজোরাশো জগত্পতেয় অনুকম্পয়েমাং ভক্ত্যায় গৃহাণার্ধয় দিবাকররু।।

ওম হৃীং ঘৃণিঃ সূর্য আদিত্যঃ ক্লীং ওম।।

  • সূর্যকে প্রসন্ন করার জন্য রবিবার গুড় দান করা উচিত। এদিন দান করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ব্যক্তি নিজের ইচ্ছানুযায়ী দান করতে পারেন।
  • কমলা সূর্যের রং। রবিবারের দিন তাই এই রঙের কাপড় পড়া উচিত।