এ. পি. জে. আবদুল কালাম

এ. পি. জে. আবদুল কালাম

আভুল পকির জয়নুলাবেদীন আব্দুল কালাম ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একাদশ রাষ্ট্রপতি। কালাম তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একজন বিজ্ঞানী হিসেবে। পরে তিনি ঘটনাচক্রে গণপ্রজাতন্ত্রী ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কালামের জন্ম বর্তমান ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রামেশ্বরমে। তিনি পদার্থবিদ্যা বিষয়ে সেন্ট জোসেফ'স কলেজ থেকে এবং বিমান প্রযুক্তিবিদ্যা বিষয় নিয়ে মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর চল্লিশ বছর তিনি প্রধানত রক্ষা অনুসন্ধান ও বিকাশ সংগঠন  ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায়  বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই কালামের জীবনী সম্পর্কে। 

 জন্ম ও পরিচয়- ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর তামিলনাড়ুর রামানাথপুরম জেলায় রামেশ্বরম দ্বীপসাগরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।পিতা জয়নুল আবেদিন ছিলেন পেশায় মৎসজীবি। খুব বেশী শিক্ষিত মানুষ ছিলেন না তিনি। তবে মনের দিক থেকে তিনি ছিলেন খুবই বড়োমাপের। মা আসিয়ানা সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। 

 শৈশব কাল- মায়ের পরিবারের পূর্বপুরুষরা ব্রিটিশ প্রদত্ত বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। মা কিন্তু তার এই ভাগ্য বিপর্যয়কে হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলেন। তিনটি পুত্র এবং একটি কন্যা সন্তানকে কীভাবে মানুষের মত মানুষ করে বড়ো করা যেতে পারে , তাই ছিল তাঁর ইহজীবনের স্বপ্ন। ছোটবেলার খেলার সাথীদের কথাও মনে পড়ে যায় আবদুলের। মেলামেশা করতেন রামনাথ শাস্ত্রী , অরবিন্দন আর শিব প্রকাশনের সঙ্গে , তাঁরা সকলেই ছিলেন সনাতনপন্থী হিন্দু পরিবারের সন্তান। আর আবদুল গোড়া মুসলমান। কিন্তু শৈশবে তাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার ভেদ রেখা ছিল না । তখন তাঁরা সকলেই একসঙ্গে মেলামেশা করতেন।

 শিক্ষাজীবন- দিন কাটতে থাকে এবার কালামকে বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে হবে। পিতা ছিলেন বিদ্যানুরাগী , সংস্কৃত সাহিত্যের গল্পকথা আবদুলকে শোনাতেন। মা ঠাকুরমার মুখ থেকে আবদুল রামায়ণ এবং মহাভারতের অনেক কাহিনীও শুনেছিলেন। এই ভাবে তাঁর হৃদয়ে সংস্কৃতির পরম্পরা প্রবাহিত হয়েছিল। তিনি ভর্তি হলেন রামেশ্বরম এলিমেন্টরি স্কুলে।এবার কালাম এলেন বৃহত্তর শিক্ষাঅঙ্গনে । ভর্তি হলেন স্টুওয়াজ হাইস্কুলে। ছোটোবেলার সঙ্গী সাথীদের সাথে আর তার দেখা হতো না। কিশোর কালাম উপলব্ধি করলেন সেই শাশ্বত সত্য জীবনে চলার পথে এভাবেই আমরা একলা পথিক হয়ে যাই। এই হাইস্কুলের অনেকের কথাই মনে পড়ে। ওখানকার শিক্ষক ইয়াদুরাই সলোমনকে তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না। তাকে দেখে কিশোর কালামের মনে হত , তিনি বোধহয় বৈদিক যুগের এক ব্রহ্মচারী। ছাত্রের জীবন অন্বেষণার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

 কলেজ জীবন- এ.পি.জে. আবদুল কালাম ছোটোবেলা থেকেই ছিলেন বিজ্ঞানের এক অসাধারণ প্রভাবশালী ছাত্র। স্কুলের পরীক্ষাতে বরাবর কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছেন। তার কর্মজীবনটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ১৯৫০ সালে সেন্ট জোসেফ কলেজে ভর্তি হলেন কালাম , ইন্টারমিডিয়েট কোর্সে। সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর ম্যাড্রাস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হন এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য।

 কর্মজীবন-১৯৬০ এ বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনে। কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছোট মাপের একটি হেলিকপ্টারের নকশা করার মধ্য দিয়ে। কিন্তু দ্রুতই উত্থান ঘটে তার। ভারতের মহাকাশ গবেষণার সংস্থা ইসরোর সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত সামরিক মিসাইল তৈরির প্রকল্পে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন । মহাকাশযান ও স্যাটেলাইট বহনকারী পি এস এল ভি এবং এস এল ভি থ্রি রকেট তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ভারতের  মিসাইল ম্যান  বলা হয় তাঁকে। পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির সঙ্গে একই সারিতে ভারতকে তুলে আনার জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯৮ সালে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা সংক্রান্ত পোখরান – টুপ্রকল্পের চিফ প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ছিলেন তিনি। ২০০২ সালে ভারতের একাদশতম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এ.পি.জে. আবদুল কালাম। ২০০২-২০০৭ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন এ.পি.জে. আবদুল কালাম। পরে এ.পি.জে. আবদুল কালাম শিলং আই আই এম  এ ভিজিটিং প্রফেসর হন।

 মৃত্যু- ২৭ শে জুলাই ২০১৫ ভারতের পরমানু গবেষনার পথিকৃৎ তথা দেশের  মিসাইল ম্যান , ভারতের একাদশতম প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ.পি.জে. আবদুল কালামের জীবনাবসান হয় ৮৪ বছর বয়সে।